ফাঁস হলো ইরান-রাশিয়ার গোপন সহযোগিতার ‘মেগা পরিকল্পনা’ অর্থ, পারমাণবিক জ্বালানি, তেল-গ্যাস, উড়োজাহাজ শিল্প থেকে পরিবহন—বিভিন্ন খাতে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে ৪৪ পৃষ্ঠার একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছিল রাশিয়া। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল মেয়াদের এ পরিকল্পনায় দুই দেশের সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার নানা উদ্যোগের বিস্তারিত রয়েছে। ‘প্ল্যান ফর কো-অপারেশন বিটুইন দ্য রাশিয়ান ফেডারেশন অ্যান্ড দ্য ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ফর ২০২৪-২০২৬’ শিরোনামের রুশ ভাষার নথিটি ‘অফিশিয়াল ব্যবহারের জন্য’ চিহ্নিত। ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর রুশ পক্ষ এটি অনুমোদন করে। সম্প্রতি নথিটি হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে ফক্স নিউজ ডিজিটাল। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব এবং ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়সীমা এতে উল্লেখ করা হয়েছে। ♦️ নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য দুই দেশের আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানো রোডম্যাপটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ৬৮ শতাংশ নিজস্ব মুদ্রায় সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। ২০২৬ সালের মধ্যে তা ৭১ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে নিজস্ব মুদ্রায় করেসপন্ডেন্ট ব্যাংক হিসাব বাড়ানো এবং আন্তসীমান্ত লেনদেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করার কথা রয়েছে। আর্থিক তথ্য আদান-প্রদানে স্বাধীন ব্যবস্থা ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। তবে নথিতে সরাসরি সুইফটকে পাশ কাটানো বা মার্কিন ডলারের আধিপত্য ভাঙাকে এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এর বাইরে রাশিয়ার ‘মির’ ও ইরানের ‘শেতাব’ পেমেন্ট ব্যবস্থাকে যুক্ত করার উদ্যোগও এগিয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সেই ওভারচুক বলেন, দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় লেনদেন প্রায় পুরোপুরি নিজস্ব মুদ্রায় নিয়ে গেছে। ♦️ বুশেহরে রোসাটম পারমাণবিক জ্বালানি খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে জ্বালানি সরবরাহ ও কারিগরি সহায়তার দায়িত্ব রয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের। পাশাপাশি কেন্দ্রটির ২ ও ৩ নম্বর ইউনিটের নির্মাণকাজও সহযোগিতা পরিকল্পনার অংশ। তেল-গ্যাস খাতেও রুশ অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। রোডম্যাপে ইরানের শাদেগান, কিশ ও নর্থ পার্স তেল-গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য রুশ অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কয়েকটি প্রকল্পের অর্থায়নের তথ্য নথিতে ‘গোপনীয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ♦️ ইরানে তৈরি হতে পারে রুশ বিমানের যন্ত্রাংশ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে উড়োজাহাজ খাতেও ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে মস্কো। রোডম্যাপে রুশ বিমানের কোন কোন যন্ত্রাংশ ইরানে মেরামত বা উৎপাদন করা সম্ভব, তা নির্ধারণ এবং সক্ষম ইরানি প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। রাশিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোসাভিয়াতসিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইরানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সনদ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষামূলক যন্ত্রাংশ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ইরানে রুশ বিমানের যন্ত্রাংশ উৎপাদন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে—এমন তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ♦️ পারস্য উপসাগর পর্যন্ত পরিবহন যোগাযোগ পরিবহন খাতেও বড় পরিকল্পনা রয়েছে রাশিয়া ও ইরানের। রোডম্যাপে আজারবাইজান সীমান্ত থেকে ইরানের ভেতর দিয়ে পারস্য উপসাগরের বন্দরগুলোর দিকে রুশ মানের রেলপথ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডরের গুরুত্বপূর্ণ ‘অনুপস্থিত সংযোগ’ হিসেবে পরিচিত প্রায় ১৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ রাশত-আস্তারা রেলপথের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রকল্পটির প্রকৌশল জরিপ শুরু করে রাশিয়া ও ইরান। দুই দেশ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব’ চুক্তিতেও সই করে। ওই চুক্তিতে পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা সম্প্রসারণের কথা রয়েছে। তবে ২০২৪ সালে তৈরি রোডম্যাপটির সব প্রকল্প বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নথিটি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। পরবর্তী সময়ে প্রকাশ্যে আসা তথ্য থেকে দেখা যায়, পরিকল্পনায় থাকা বেশ কয়েকটি উদ্যোগের অগ্রগতি হয়েছে। সূত্র: ফক্স নিউজ ডিজিটাল #assidqnews #iran #Russia news
Log In to leave a comment.