১৯৭১ সাল। আমেরিকায় নারী-পুরুষ Equal Rights Amendement পাশ হবে, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে। সবকিছুতে নারী-পুরুষ সমান। অধিকারে সমান, কর্তব্যে সমান। অফিসিয়ালি সংবিধানে যুক্ত হতে কমপক্ষে ৩৮টি রাজ্যের অনুমোদন লাগবে। ১৯৭২ সালের ভিতরই ২৮ রাজ্য অনুমোদন করে দিল। সমতার আইন-এর বিপরীতে আমেরিকান নারীদের একটা অংশ আন্দোলন গড়ে তুলল। যার নেতৃত্বে ছিলেন Phyllis Schlafly নামক এক নারী আইনজীবী ও রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ। আমেরিকান পণ্ডিতরা মনে করেন: ফিলিস এই দুর্বার আন্দোলন গড়ে না তুললে ৭৫-৭৬ সালেই আইন পাশ হয়ে যেত, যেটা আজও হয়নি। ৩৮ রাজ্য পুরা হয়নি। ৩৫-এসে আটকে ছিল এতদিন। লাস্ট নেভাদা, ইলিনয় ও ভার্জিনিয়া ২০১৭-২০ এ অনুমোদন দিয়েছে। আচ্ছা কেন সেসময় ক্যারিয়ার-ওমেনদের একটা অংশ, এমপিদের স্ত্রীরা এবং আমেরিকান নারীদের বিরাট একটা অংশ সমতার আইন চায়নি। এবং এখনও চায় না। নারী-পুরুষ সমান কিনা, এই প্রশ্নে তারা নারী সমন্বয়কের চেয়েও রাখঢাকহীন জবাব দেবে: না, সমান না। কেন? ফিলিসের (১৯২৪-২০১৬) এন্টি-সমতা ক্যাম্পেইনের মূল অবস্থান ছিল: ১. এই আইন পাশ হলে পুরুষের মতো নারীকেও বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে (military drafting) ২. গৃহিনী নারীরা 'নারী হবার দরুন' স্বামী ও সমাজের কাছে যে বিশেষ সুবিধাগুলো পাচ্ছিলো, তা বন্ধ হয়ে যাবে। ৩. এটার বেনিফিট পাবে তরুণী ক্যারিয়ার-ওমেনরা। আর মধ্যবয়সী গৃহিনী, ডিভোর্সি-বিধবারা সমাজের কঠোরতার শিকার হবে। ৪. এটার বেনিফিট পাবে পতিতা, মাদকাসক্ত, নৈতিক চরিত্রহীন এবং সমকামী নারীরা। ৫. নারী-পুরুষের বেতন-বৈষম্য থাকাটা উচিত। তা না থাকলে নারীরা মাতৃত্বকে ঘৃণা করবে। আর এভারেজ পুরুষের বেতন বেশি থাকাটা দরকার, কারণ পুরুষ প্রোভাইডার। ৬. ক্যারিয়ারের চেয়ে স্ত্রী, মা, গৃহিনীর ভূমিকা নারীর জন্য প্রধান ভূমিকা এবং সমাজের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ৭. নারী-পুরুষ আলাদা এবং এই পার্থক্য-বৈষম্য মুছে দেয়া কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। পারলে গডের কাছে কমপ্লেন করো। ৮. নারীর দেহমনের বিকাশ ও পরিতৃপ্তি ক্যারিয়ারে নয়। বরং পরিবারে। নারীবাদের ডাক খোদ নারীর জন্য ক্ষতিকর। ২০২০ সালে ভার্জিনিয়া ৩৮তম রাজ্য হিসেবে অনুমোদন দেয়। তারপরও গত ৪ বছরে সংশোধনী পাশ হয়নি। © শামসুল আরেফিন শক্তি
Log In to leave a comment.