Siyam Jaman's Post
Avatar

প্রিয় আর প্রিয়শী ২য় পর্ব সাকিবের আরেকটা নতুন জীবন শুরু হলো তাইবার সাথে। তাইবা সাকিবকে অনেক ভালোবাসতো এতোটাই ভালোবাসতো যে সাকিবের মনে হতো পৃথিবীতে এমনভাবে কেউ কাউকে ভালোবাসেনি। তাইবা সাকিবকে একটা ডাকনাম দিলো (প্রিয়) তাইবা সাকিবকে প্রিয় বলেই ডাকতো। সাকিবও তাইবাকে প্রিয়শী বলে ডাকতো। তাইবা সাকিবকে বলতো আমি অনেক ভাগ্যবান তোমার মতো এমন একটা মানুষ আমার জীবনে পেয়ে। দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসতো এবং বিশ্বাস ও করতো তাইবার একটা বিষয়ই সাকিবের ভালো লাগতো না যে তাইবা সারাদিন ভিডিও দেখা নিয়ে পরে থাকতো সাকিবকে সময় খুব কম দিতো কিন্তু যখনই সে সাকিবকে সময় দিতো সাকিব সব কষ্ট ভুলে যেতো। একদিন সকালে সাকিব ব্রাশ করছিলো এমন সময় তাইবার ফোন থেকে সাকিবের ফোনে ভিডিও কল আসে। সাকিব কল রিসিভ করার পর দেখে অপরপ্রান্তে থেকে একটা পিচ্ছি মেয়ে সাকিবকে পাপা পাপা বলে ডাকছে। এরকমভাবে ৩ থেকে ৪ মিনিট সাকিব আর ওই পিচ্ছি মেয়েটা কথা বলল। তারপর হঠাৎ করেই কল কেটে গেলো। তারপর তাইবা সাকিবকে ম্যাসেজ করতে লাগলো তাইবা অনেক ঘাবড়ে গিয়েছিলো বলতে লাগলো সরি সরি আমার মেয়ে তোমাকে কল দিয়ে ফেলেছিলো সরি মাফ করে দাও প্রিয়। সাকিব সজোড়ে একটা ধাক্কা খেলো। সাকিব তাইবাকে জিজ্ঞাসা করলো। সাকিব : তোমার হাজবেন্ট কোথায়? তাইবা : বিদেশে থাকে। সাকিব : ওহ। তাইবা : হুম। সাকিব : তোমার হাজবেন্ট কি তোমাকে ভালোবাসে না? তাইবা : না ও আমাকে ভালোবাসে না প্রিয় ও আমাকে অনেক মারধর করে গো। সাকিব : কিন্তু কেনো? তাইবা : ও অন্য মেয়েকে ভালোবাসে। সাকিব : ও আচ্ছা। তাইবা : আমাকে মাফ করে দাও প্রিয় আমি তোমার ভালোবাসার যোগ্য নই, তুমি যদি চাও আমাকে ছেড়ে চলে যাও আমি তোমাকে কোনো দোষ দেবোনা। সাকিব : আচ্ছা শোনো এখন আমার কাজ আছে পরে কথা হবে। এই বলে সাকিব নেট বন্ধ করে অফলাইন হয়ে গেলো সাকিব সারাদিন ভাবলো কি করা উচিত তার ভাবলো যে ওর হাজবেন্ড তো ওকে ভালোবাসে না ওকে কষ্ট দেয় তাহলে ও যদি অন্য কাউকে ভালোবাসে তাহলে ওর দোষ কোথায়? আর তাছাড়া যে ওকে ভালোইবাসে না তার সাথে জীবন কাটিয়ে সারাজীবন কষ্ট পাবে কেন? আর ওই পিচ্চি মেয়েটাও যদি ভবিষ্যতে মা বাবার ঝগড়ার শিকার হয় তাহলে তো ওরও জীবন নষ্ট হয়ে যাবে এসবের মধ্যে ওই ছোট্ট শিশুটার কি দোষ? আর আমি যদি এসব শোনার পর তাইবাকে ছেড়ে দেই তাহলে আমার ভালোবাসাটাওতো মিথ্যা প্রমাণ হবে যে আমি আমার প্রিয় মানুষটাকে কষ্টের মাঝে ছেড়ে দিয়েছি। না আমি তাইবাকে ছাড়বো না। তাইবার সাথে সাথে এই শিশু বাচ্চাটাকেও নিজের করে নিবো। আমি ওকে ওর বাবার পরিচয় দেবো। আমি ওকে এতোটাই ভালোবাসবো যে ও কখনোই বুঝতে পারবে না যে আমি ওর জন্মদাতা পিতা নই। তারপর সাকিব তাইবাকে তার মনের সব কথাগুলো বললো। তাইবাও অনেকটা ভরসা পেলো সাকিব : আচ্ছা আমার পিচ্চি মেয়েটার নাম কি? তাইবা : সামিয়া। সাকিব : খুব সুন্দর নাম। তাইবা : ধন্যবাদ। সাকিব : জানো! সামিয়া আমাকে কি বলছিলো? তাইবা : কি? সাকিব : তুমি শুনলে হয়তো বিশ্বাস করবে না। তাইবা : আগে তুমি বলো তো কি বলেছিলো? সাকিব : তাইবা আমাকে পাপা পাপা বলছিলো। তাইবা : সত্যি? সাকিব : হুম জান সত্যি, ও আমাকে প্রথম কলেই পাপা বলেছে তুমি দেইখো আমি আসলেই ওর পাপা হয়ে দেখাবো আমি ওর অনেক ভালো বাবা হবো সামিয়া গর্ব করে বলবে যে আমি ওর বাবা। তাইবা : ইনশাআল্লাহ। কিছুদিন পর তাইবার ফেসবুক আইডিতে তাইবা লগইন করতে পারছিলো না তারপর তাইবা সাকিবকে তার ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড দিয়েছে। তারপর সাকিব তাইবার ফেসবুক আইডি লগইন করেছে আইডি ঠিক করার জন্য। ঠিক তখনই তাইবা আর তানজিলা চ্যাট করছিলো তাইবা তানজিলা কে বলছিলো যে একটা কথা বলি রাগ করিস না তোর থেকে লুকিয়েছি বলে, আসলে আমার একটা না দুইটা মেয়ে। এগুলো সব সাকিব দেখছিলো তাইবা এতোবড় কথা সাকিবের থেকে লুকিয়েছে বলে সাকিব ভিষণ কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু সাকিব তাইবাকে বুঝতে দেয়নাই যে সে সব জেনে গেছে সাকিব তাইবার সাথে এই বিষয় নিয়ে কোনো কথাই বলেনি। তারপর সাকিব তাইবাকে তার আইডি ঠিক করে দিয়েছে। এরপর সাকিব তাইবাকে বলেছে যে সাকিব : তুমি তোমার আইডির পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে ফেলো। তাইবা : না প্রিয় আমি পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করবো না সাকিব : কেনো চেঞ্জ করবে না? তাইবা : তুমি আমার আইডিতে ঢুকলেই বা কি আমার কোনো সমস্যা নাই তুমি তো আমার প্রিয় মানুষ আমার ভালোবাসার মানুষ। তারপর সাকিব আর কিছু বলেনি। সাকিব তার মোবাইল থেকে তাইবার আইডিটা রিমুভ করতে ভুলে গিয়েছিলো যাতে করে ভুল করে মাঝেমধ্যে তাইবার আইডিটা লগইন হয়ে যেতো একদিন তাইবা মনে করলো যে সাকিব ইচ্ছে করেই সারাক্ষণ তাইবার আইডিতে ঢুকে থাকে আর সে কার সাথে কি কথা বলে সব দেখে। তারপর তাইবা সাকিবকে কিছু না বলেই ব্লক মেরে দিলো। সাকিব কোনো দোষ না করেই এতোবড় সাস্তি পেলো। তাইবার সাথে সাথে সামিয়াকেও হারালো সে যে সামিয়াকে সে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতো। ভালোবাসা নামক শব্দের প্রতি সাকিবের ঘৃণা জমে গেছে। সাকিব মেনে নিয়েছে এই পৃথিবীতে ভালোবাসা বলতে কিছুই নেই কিন্তু সেই ছোট্ট পিচ্চি সামিয়াকে সে এখনো নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসে। শুধুমাত্র সামিয়ার জন্যই সে তাইবার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। মাঝেমধ্যে সে রঙ নাম্বার থেকে তাইবাকে কল দেয় কিন্তু তাইবা রিসিভ করেনা। দেড় বছর পর তাইবা সাকিবের কল রিসিভ করে। সাকিব : আসসালামু আলাইকুম। তাইবা : ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহ, হঠাৎ এতোদিন পর? সাকিব : কেমন আছো? তাইবা : আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি তুমি কেমন আছো? সাকিব : আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তাইবা : তো এতোদিন পর কিভাবে মনে পড়লো? সাকিব : মনে তো সবসময় পরে কিন্তু তোমাকে কল দিলে তুমি ধরোনা, সামিয়া কেমন আছে? তাইবা : আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে। সাকিব : সামিয়া কে একটু ফোনটা দিবা? তারপর তাইবা সামিয়াকে মোবাইলটা দিলো তারপর সাকিব কান্না গলায় সামিয়ার সাথে কথা বললো হ্যালো মা কেমন আছো মা তোমাকে আমি অনেক মিস করি গো মা। কিন্তু সামিয়া সাকিবের কোনো কথাই বুঝতে পারলো না তারপর তাইবা সামিয়ার কাছ থেকে ফোন নিয়ে সাকিবকে বললো তাইবা : সামিয়া তোমার কথা বুঝতে পারে না। সাকিব : একটা অনুরোধ করছি তুমি প্লিজ আমার ব্লকটা খুলে দাও আমি কথা দিচ্ছি তোমাকে কখনোই বিরক্ত করবো না আমি শুধু সামিয়ার খোজ নিবো। তাইবা : আচ্ছা ঠিকাছে। তারপর থেকে সাকিব আর তাইবার আবারও কথা বলা শুরু হয়ে গেলো, কিন্তু সাকিব শুধু সামিয়ার বেপারেই কথা বলতে চাইতো অন্য কোনো বেপারে তেমন কথা বলতো না। পরবর্তী অংশ অনেক তাড়াতাড়ি আসবে কে কে পড়তে আগ্রহী তারা কমেন্টে জানান ✍️ সিয়াম জামান ✍️

Translate to English
Post Image
7 Likes 4 Comments 46 Views

Comments (0)

Please Login to comment.