প্রিয় আর প্রিয়শী ১ম পর্ব ছেলেটির নাম সাকিব। বয়স ১৮ সৃষ্টিকর্তা তাকে অন্যদের থেকে ভিন্ন করে বানিয়েছেন। সে অন্য সবার মতো হাটা চলা করতে পারেনা বাহিরে গিয়ে খেলাধুলা করতে পারেনা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পারেনা। সে দিনের ২৪ ঘন্টাই বাড়িতে থাকে। সে বাস্তব জীবনে খুব একা। কথা বলার কেউ নাই বন্ধুও নাই তেমন। আলিফা নামের একটা মেয়ে ছিলো তার জীবনে। একমাত্র আলিফাই ছিলো তার জীবনে যার সাথে সে মন খুলে কথা বলতে পারতো তার সব স্বপ্নের কথা তার সব অনুভূতি প্রকাশ করতে পারতো। সাকিব আলিফাকে অনেক ভালোবাসতো, আলিফাও নাকি সাকিবকে অনেক ভালোবাসতো। সাকিব আলিফাকে এতোটাই ভালোবাসতো যে নিজের কথা না ভেবে আলিফার কথাই ভাবতো আলিফার সুখের কথা ভেবে আলিফাকে বলতো যে সাকিব : তুমি ভুল করছো তুমি ভূল মানুষকে ভালোবাসছো। আমি তোমাকে সব সুখ দিতে পারবো না। আলিফা : আমি জানি তুমি এখন কি বলবে তুমি বলবে আমি তোমাকে দামি গহণা দিতে পারবো না, বড় দালান বাড়িতে হয়তো রাখতে পারবো না, ঘুরতে নিয়ে যেতে পারবো না, বাহিরে নিয়ে গিয়ে ফুচকা চটপটি খাওয়াতে পারবোনা ইত্যাদি। দেখো সাকিব! তোমার মুখে এসব কথা শুনে শুনে আমার মুখস্থ হয়ে গেছে আর এসব শুনতে ভালোলাগেনা, তোমাকে আমি বলেছি না যে তোমাকে কোনো কিছু করতে হবেনা? আমি কাজ করে তোমাকে খাওয়াবো তোমাকে কিছু করতে দিবোনা। সাকিব : আমার ভালোবাসার মানুষ কষ্ট করবে আর আমি বসে বসে দেখবো এটা কি সম্ভব? আলিফা : তুমি চুপ থাকো সাকিব। তুমি পাশে থাকলে এসব কিছুই আমার জন্য সুখে পরিনত হবে কোনো কষ্ট হবেনা আর তুমি না থাকলে টাকা পয়সা স্বর্ণ গয়না দিয়ে গোসল করতে পারলেও আমি সুখ পাবোনা। সাকিব : তোমার বাবা মা আমার কাছে তোমাকে কখনোই বিয়ে দেবেনা। আলিফা : সেটা আমি দেখে নেবো আমার মা বাবাকে আমি ঠিক মানিয়ে নেবো। তুমি তোমার মা বাবাকে মানাও। তারপর সাকিব অনেক কষ্ট করে তার ফ্যামিলিকে আলিফার জন্য রাজি করালো। তার কিছুদিন পরেই সাকিব আলিফার মোবাইলে কল দিলো। কিন্তু কল ধরলো আলিফার ফুপাতো বোন। কল ধরেই সাকিব কে বললো দেখ সাকিব আলিফা আমাদের সব বলে দিয়েছে তুই নাকি আলিফার পিছোনে পরে আছিস তুই নাকি আলিফাকে ডিস্টার্ব করিস? দেখ তোরে লাস্ট ওয়ার্নিং দিলাম আলিফাকে আর কল করবি না তোর মতো ছেলের সঙ্গে আলিফাকে বিয়ে দেবোনা আর আলিফাও তোকে চায়না। এসব শুনে সাকিব অনেক ভেঙে পড়লো আর সাকিবের অতীতের সব কথাই মনে পড়ে গেলো যে কিভাবে আলিফা বীণা কারণে বারবার সাকিবের সাথে ব্রেকাপ করে চলে যেতো আবার কয়েকমাস পর ফিরে আসতো এইবার ছিলো রোজার মাস আলিফা আল্লাহর কসম দিয়ে সাকিবকে বলেছিলো যে এইবার আর তাকে ছেড়ে যাবেনা। এরপর কি হলো সে নিজে ছেড়ে যেতে না পেরে তার পরিবারকে ব্যবহার করে বিচ্ছেদটা সফল করলো। এরপর থেকে ভালোবাসার প্রতি সাকিবের বিশ্বাস উঠে গেলো সাকিবের তো বাস্তব জীবনে তেমন কেউ নাই তাই সে সোস্যাল মিডিয়াতে অনেক এক্টিভ থাকে সোস্যাল মিডিয়ায় তার অনেকেই আছে বোন আছে এমনকি নানি দাদি ও আছে। অনেক মেয়েরা সাকিবকে প্রপোজ করতো কিন্তু সাকিব সহজে কাউকে পাত্তা দিতো না। মাঝেমধ্যে ভাবতো সব মেয়েরা তো আর খারাপ না। এটা ভেবে কিছুকিছু মেয়েকে চান্স দিতো কিন্তু তারাও সাকিবকে প্রয়োজনে ব্যবহার করে প্রয়োজন শেষে মন ভেঙে দিয়ে চলে যেতো সোশ্যাল মিডিয়াতেই সাকিবের একটা বোন ছিলো তানজিলা। তানজিলার একটা বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো তাইবা সাকিবের সাথে তাইবা মাঝেমধ্যে মেসেজে কথা বলো সাকিবের সাথে সে অনেক দুষ্টামি করতো সাকিবের বেশ ভালোই লাগতো। একদিন সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ করেই তাইবা সাকিবকে প্রপোজ করে ফেললো। সাকিব খুব অবাক হলো কিন্তু কোনো কিছুতেই সে প্রপোজ এক্সেপ্ট করলো না তাইবা : তুমি কেনো আমার ভালোবাসাটা গ্রহণ করবে না? সাকিব : দেখো তাইবা তুমি আমার বেপারে কিছু জানোনা আর জানলে ভালোবাসবে না আর আমি মিথ্যা বলে কারো সাথে কোনো সম্পর্ক গড়তে চাইনা। তাইবা : কি জানিনা আর কি এমন কথা যেটা জানলে তোমাকে ভালোবাসবো না? সাকিব : দেখো আমি তোমাদের মতো না আমি অন্য সবার মতো হাটা চলা করতে পারিনা তাইবা : সেটা আমি আগেই জানি তানজিলা আমাকে সব বলে দিয়েছে। সাকিব : তারপরেও ভালোবাসো? তাইবা: হুম অনেক ভালোবাসি আর শোনো ভালোবাসা বাহ্যিক রুপ আর টাকা পয়সা দিয়ে হয়না ভালোবাসা হয় মন দিয়ে। সাকিব : তারপরেও আমি তোমাকে এক্সেপ্ট করতে পারবো না আমাকে মাফ করে দাও তাইবা : কেনো আমি কি ভালো মেয়ে নই? সাকিব : তা নয় তুমি অনেক ভালো একটা মেয়ে কিন্তু ভালোবাসার উপর থেকে আমার বিশ্বাস উঠে গেছে। তাইবা : কেনো কি এমন হয়েছে? তারপর সাকিব তার আর আরিফার পুরো গল্পটা তাইবাকে শোনালো আর তাইবার প্রোপজ সেদিন সে রিজেক্ট করে দিলো। দিনের পর দিন মাসের পর মাস যেতে লাগলো একাকিত্বের আগুনে পুড়তে লাগলো সাকিব। দীর্ঘ ৯ মাস পর তাইবা সাকিবকে আবারও প্রপোজ করলো। সেদিন আর সাকিব রিজেক্ট করতে পারলো না সাকিব তাইবার প্রপোজ এক্সেপ্ট করে নিলো। পরবর্তী অংশ অনেক তাড়াতাড়ি আসবে কে কে পড়তে আগ্রহী তারা কমেন্টে জানান ✍️ সিয়াম জামান ✍️
Log In to leave a comment.