নির্বাচন বা ভোটকে আমানত, শাহাদত (সাক্ষ্য), ওয়াকালাত (প্রতিনিধি বানানো) কিংবা শাফাআত (সুপারিশ) মনে করা মূলত পরিভাষা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে হয়।পরিভাষার ওপর শাব্দিক অর্থ প্রয়োগ করে হুকুম লাগানো ফিকহী দেওলিয়াত্বের প্রমাণ কিংবা যুগের পরিভাষা সম্পর্কে ধারণা না রাখার ফল। ফুকাহায়ে কিরাম বলেছেন, من لم يعرف أهل زمانه فهو جاهل অর্থাৎ, যে আলেম তার যুগের অধিবাসীদের (বাগধারা বাকরীতি, পরিভাষা, প্রথা, প্রচলন ইত্যাদি) জানে না সে (ঐসব বিষয়ে) জাহেল (অজ্ঞ)। সুতরাং, তাদের কথা সেই সকল ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে না, তিনি মৌলিকভাবে ফিকহ ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে যতোই উপযুক্ত ব্যক্তি হোন না কেন। বিঃদ্রঃ (উপমহাদেশে মুসলিম নামধারীদের দ্বারা) গণতন্ত্রের (ব্যবহার ও প্রয়োগের) শুরুর যুগে গণতন্ত্রের পরিভাষার বিষয়টি আসলেও অনেকটা অস্পষ্ট ছিল যে কারণে আমাদের আকাবিরদের অনেকেই গণতন্ত্রের পরিভাষার মারপ্যাঁচ বোঝেন নি। তাই অনেকেই ভোট বা নির্বাচনকে এ সকল অভিধায়ে অভিহিত করেছেন যা নিঃসন্দেহে ভুল। তবে তারা যেহেতু পরিভাষার বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন না এজন্য তাদেরকে আমরা মা'যুর মনে করতে পারি। কিন্তু এখনো এসে ২০২৩ সালে এ ব্যাপারে অজ্ঞতার ব্যাপারটি মেনে নেওয়া মুশকিল! এটাকে আমরা বড়জোর অলসতা ও গাফলতী বলতে পারি। সেই কবে একটি ফতোয়া দেওয়া হয়েছে সেটা নিয়েই পড়ে থাকা নিঃসন্দেহে অলসতা।এ ধরণের অলসতা ও গাফলতীকে কোনভাবে প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। তবে কোনো বড় আলেমের এমন ভুল প্রকাশ পেলে আমরা তাদের ব্যাপারে জবান দারাযীও করতে পারি না। আমাদের দায়িত্ব সঠিক বিষয়টি প্রকাশ করা। আলেমদের শানে কোনো কটুক্তি বা বেয়াদবী মূলক কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। আলেমদের শান হলো উসুল ও দলীলের আলোকে যেটাকে ভুল মনে হবে সেটাকে প্রমাণ করা। খোঁচাখুঁচি ও গুতাগুতি তাদের কাজ নয়। © Abu Usama Jafar #গণতন্ত্রের_বিরুদ্ধে_উলামায়ে_দেওবন্দ ২
Log In to leave a comment.