গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় এলাকায় গরুর মাংস বিক্রিতে বাধা দেওয়া এবং এক কসাইকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আলমগীর কসাই নামে এক মাংস ব্যবসায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। পরে আবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ প্রশাসন ও অভিযুক্ত কর্মকর্তা অভিযোগটি অস্বীকার করে ঘটনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ ও ‘অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করেছেন। ভাইরাল হওয়া আবেদনে আলমগীর কসাই উল্লেখ করেন, তিনি মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ জলিরপাড় বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের পাশে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর চাহিদা অনুযায়ী গরুর মাংস বিক্রি করে আসছেন। তার অভিযোগ, গত ১৫ মে দুপুরে সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার আওরঙ্গজেব সেখানে গিয়ে তাকে গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ করতে বলেন। এ সময় তাকে ভয়ভীতি ও হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। আবেদনে আরও বলা হয়, এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আলমগীর কসাইয়ের দাবি, জলিরপাড় ইউনিয়নের মুসলমানরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি আগের মতো মসজিদের পাশে গরুর মাংস বিক্রি চালিয়ে যেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে আলমগীর কসাই বলেন, গত শুক্রবার থেকে তার গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসে তাকে সেখানে গরুর মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করেন। তার ভাষ্য, তাকে জানানো হয়েছে—এখানে গরুর মাংস বিক্রি চলবে না, কারণ এটি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশ। পুনরায় গরু জবাই করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাকে কোর্টে দাঁড় করানো হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আলমগীর আরও বলেন, তিনি যে দোকানে ব্যবসা করেন সেটি মসজিদ কমিটির কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া। মসজিদের পেছনে নদীর পাড়ে ধর্মীয় নিয়ম মেনে রক্ত ও ময়লা পরিষ্কার করেই তিনি মসজিদের সামনে দোকানে মাংস বিক্রি করেন। তার দাবি, তিনি কোনো হিন্দু সম্প্রদায়ের জায়গা বা সীমানায় গিয়ে গরু জবাই করেননি। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন বলেও জানান আলমগীর। তিনি বলেন, ডিসি অফিস থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তার ভাষায়, যদি পুলিশ আইনিভাবে বাধা না দিত, তাহলে একজন ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে আবেদন করার সাহস তার হতো না। তবে আইনের লোক হয়ে তার রুটি-রুজিতে বাধা দেওয়ায় তিনি ডিসির দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি আরও জানান, পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার আওরঙ্গজেব। তিনি বলেন, আলমগীরকে তিনি এ ধরনের কোনো কথা বলেননি। সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান স্যারের নির্দেশনায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার দাবি, এমপি জানতে চেয়েছিলেন—জলিরপাড় এলাকায় অনেকদিন গরুর মাংস বিক্রি হয় না, এখন কে বিক্রি করছেন। সে বিষয়ে খোঁজ নিতে এবং ভবিষ্যতে মাংস বিক্রির আগে যেন তার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়, মূলত এ কথাই বলতে গিয়েছিলেন। এর বাইরে কোনো হুমকি বা আপত্তিকর কথা বলা হয়নি বলেও জানান তিনি। ঘটনার বিষয়ে মুকসুদপুর সার্কেলের এএসপি নাফিসুর রহমান বলেন, অভিযোগকারী যেভাবে দাবি করছেন, প্রকৃত ঘটনা তেমন নয়। তার ভাষ্য, জলিরপাড় এলাকা মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত অঞ্চল এবং সেখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে গরু জবাই করার প্রচলন ছিল না। সম্প্রতি নতুন করে বিষয়টি শুরু হওয়ায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে আপত্তি ওঠে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশাসনকে জানানো হয়। এএসপি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়, সেই বিবেচনায় ফাঁড়ির ইনচার্জকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তথ্য সুত্র : দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস #Fridaypost #Gopalganj
Log In to leave a comment.