বাস্তবতা হচ্ছে, একিউ,তালেবান কখনই নিজ থেকে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে জড়াতে চায়নি, বরং একিউ পাকিস্তানের রাজনীতিতে নিজেদের ফান্ডও দিয়েছে। মূলত বাধ্য হয়েছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে।
মার্কিন নেতৃত্বে ন্যাটো যখন আফগানিস্তানে আক্রমণ করে, তখন তারা সবচেয়ে বড় যে সমস্যার সম্মুখীন হয়, সেটা হচ্ছে—আফগানিস্তান এমন একটি দেশ যেখানে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। আর আকাশপথে যুদ্ধের রসদ, অস্ত্র, আমেরিকা থেকে আফগানে আনা অসম্ভব। তখন একনিষ্ঠ গোলামের মতো নিজেদের পোর্ট ব্যবহার করতে দেয় পাকিস্তান। যুদ্ধের সব রসদ মূলত পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে যেত। যদি পাকিস্তান তার পোর্ট ব্যবহার করতে না দিত, তাহলে আমেরিকার পক্ষে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না।
ফলে আল-কায়দা, তালেবান বাধ্য হয়ে এই সাপ্লাই চেইন বন্ধ করতে আমেরিকান রসদবাহী ট্রাকের উপর আক্রমণ করতে শুরু করে। ট্রাক ড্রাইভারদের অপহরণ করে, হত্যা করে। ফলে কোনো ড্রাইভার আর রসদ পরিবহনে রাজি হয় না। এই সমস্যার সমাধানও নিয়ে আসে পাকিস্তান আর্মি। তারা রসদবাহী ট্রাকগুলোকে গার্ড দিতে শুরু করে। ফলে বাধ্য হয়ে পাকিস্তান আর্মির এসব গাড়ির উপর আক্রমণ করতে হয়। এই আক্রমণ ঠেকাতে পাকিস্তান ওয়াজিরিস্তানে হামলা করে, কার্পেট বোম্বিং করে নারী-শিশুদের হত্যা করে।
শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের এই গাদ্দারির বিপক্ষে কথা বলার কারণে জামিয়া হাফসা এবং লাল মসজিদে আক্রমণ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। আব্দুর রশীদ গাজী এবং অনেক ছাত্র-ছাত্রীকে হত্যা করে। নিজেদের এয়ার বেস আমেরিকাকে ব্যবহার করতে দেয় ড্রোন হামলার জন্য। উম্মাহর নারী, মুজাহিদ ও উলামাদের আমেরিকার কাছে বিক্রি করে দেয়। অনেককে হত্যা করে, গুম করে, জেলে বন্দি করে।
একিউ সবসময় চেয়েছে পাকিস্তানে যুদ্ধ ছড়িয়ে না দিতে। বরং পাকিস্তান সেনাবাহিনিই মুসলিমদের সাথে গাদ্দারি করে এই যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল।
অথচ একদল বট বাহিনী অজ্ঞ গোড়া, কোনো ইতিহাস না জেনেই মুজাহিদদের উপর আক্রমণ করে। এরা পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে মহান প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবে উপস্থাপন করে। অথচ এরাই আবার ভারতের দালালিতে লিপ্ত হয়। এরা জানে না যে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের এই হুংকার, দুই একটা মিসাইল নিক্ষেপ—রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি। নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার গেম। এখানে মুসলিম উম্মাহর কোনো ফায়দা জড়িত নেই। এরাই কাশ্মিরের জিহাদকে ধ্বংস করেছে, কাশ্মিরের মুজাহিদদের হত্যা করেছে, নিজেদের এজেন্সির লোক দিয়ে নিজেদের স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে।
© Topu Ahmed
Comments
Total Comments: 0
No comments yet.
Leave a Comment
Login to leave a comment.