স্থলপথের সামরিক লড়াইয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের মতো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরও আকাশপথে শ্রেষ্ঠত্ব (Air superiority) রয়েছে। তবে সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে আফগানদের বিরুদ্ধে তারা কোনো সুযোগই পায়নি।
ডুরান্ড লাইন বরাবর তাদের অধিকাংশ সামরিক চৌকি মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আফগানদের দখলে চলে গেছে। নিজেদের কর্মীবাহিনী বা সৈন্য সেখানে উপস্থিত থাকায় পাকিস্তানি বাহিনী দখল হওয়া ঘাঁটি এবং সামরিক চৌকিগুলোতে বিমান হামলাও চালাতে পারছে না।
তবে তারা রণক্ষেত্রের বাইরে বিমান হামলা চালাতে পারে, যার ফলে আবারও ২২ শে ফেব্রুয়ারির মতো গণহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে—যখন তারা একই পরিবারের ১৮ সদস্যকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল এবং মাত্র কয়েকজন জীবিত ছিল। এই ধরনের পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জনসমর্থনকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
আফগান সেনাবাহিনী এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো তাদের সামরিক আদর্শ বা আকিদায়। আফগান বাহিনী একটি সুনির্দিষ্ট ইসলামি আদর্শ লালন করে লড়াই করছে, যা তাদের যোদ্ধাদের মানসিকভাবে অপরাজেয় করে তুলেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি রাষ্ট্রটির মতোই তাদের সেনাবাহিনীও এক ভয়াবহ পরিচয় সংকটে ভুগছে। রাজনীতি এবং ব্যবসায় সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতা তাদের নিজেদেরকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।
যুদ্ধ কেবল আধুনিক মারণাস্ত্র দিয়ে জেতা যায় না, বরং আদর্শিক দৃঢ়তা ও ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান বাহিনীই শেষ পর্যন্ত রণক্ষেত্রে টিকে থাকে। আর এই মনস্তাত্ত্বিক ও আদর্শিক পার্থক্যের কারণেই পাকিস্তানি বাহিনী বর্তমান দ্বন্দ্বে বারবার ধরাশায়ী হচ্ছে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায়, এই সংঘাত কেবল সীমান্ত সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পাকিস্তানের এই কৌশলগত ব্যর্থতা এবং অভ্যন্তরীণ জনরোষ অদূর ভবিষ্যতে দেশটিকে এক গভীর গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানের মতো সীমান্ত অঞ্চলগুলো যদি পুরোপুরি পাকিস্তানি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে রাষ্ট্রের অখণ্ডতা বজায় রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে।
আকাশপথে বোমাবর্ষণ করে হয়তো সাময়িক ক্ষয়ক্ষতি করা সম্ভব, কিন্তু স্থানীয় জনসমর্থন হারানো একটি বাহিনীর পক্ষে দীর্ঘমেয়াদী এই 'আদর্শিক যুদ্ধে' টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত এই অসম লড়াইয়ে আফগানদের এই ধর্মীয় সামরিক মতবাদই বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে৷ আর এমনটি হলে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ স্থায়ীভাবে বদলে যাবে।
© saeed Abrar
Comments
Total Comments: 0
No comments yet.
Leave a Comment
Login to leave a comment.