Avatar মোঃ আব্দুর রাকিব

পাকিস্তান আর আফগানের বৈরিতার ইতিহাস বহু বছরের পুরনো। দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্বের শুরুটা হয় ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় থেকেই..!

সে সময় আফগান ছিল একমাত্র দেশ, যারা পাকিস্তানকে জাতিসংঘের সদস্যপদ দেওয়ার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল।
মূল বিরোধের কারণ ছিলো আফগানের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে কঠিন বিরোধ।

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন চলাকালীন ১৮৯৩ সালে প্রথমবার ওই সীমানা নির্ধারণ করা হয় এক চুক্তির মাধ্যমে!
ডুরান্ড লাইন হিসেবে পরিচিত ওই সীমারেখা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

আফগান তখন ওই সীমানার বিরোধিতা করে, সীমানা নিয়ে বিরোধের অন্যতম কারণ ছিল খাইবার পাখতুনখোয়া আর বালুচিস্তান অঞ্চলে পশতুন গোষ্ঠীর সশস্ত্র কার্যক্রম।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দুই দেশের সীমান্তজুড়ে পাহাড়ি এলাকাতে বসবাস করা পশতুনরা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগে থেকেই স্বাধীন পশতুনিস্তানের দাবি করে আসছিল।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পরও স্বাধীনতার জন্য তাদের সশস্ত্র কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
অথচ যায়ুনিস্ট মিডিয়া ও বঙ্গু মিডিয়া তাদেরকে বারবার জঙ্গি বলে উপস্থাপন করে, স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করা জঙ্গি হলে ৭১ মুক্তিযুদ্ধারা কি ছিলো....?

মূল টপিকে আসি...!
পাকিস্তান সে সময় অভিযোগ তোলে যে, আফগান সরকার সীমান্তে অবস্থান করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করছে এবং পাকিস্তানকে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলছে! এই একটি ট্রাম্প কার্ড বারবার খেলছে এবং আফগানে হামলা করছে।

এর ধারাবাহিকতায় ১৯৪৯ সালে আফগানিস্তানে প্রথমবার বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান।
তারা দাবি করে যে, আফগান-সমর্থিত সশস্ত্র জ*ঙ্গি ক্যাম্প লক্ষ্য করে তারা বিমান হামলা চালিয়েছে!
অথচ তারা তখনো নাপাক বাহিনী আফগানে বেসামরিক নারী-পুরুষের হ*ত্যা করেছে!

এর পরের বছর প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চলে আফগান থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা ঢুকে পড়ে।
সে সময় পাকিস্তানের সেনাদের সঙ্গে ছয় দিনের যুদ্ধ চলে তাদের।
পাকিস্তান দাবি করে আফগানিস্তান সরকার এর সঙ্গে জড়িত ছিল, যে দাবি আফগান কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করে।

সেই ঘটনার পাঁচ বছর পরে এক দ্বন্দ্বের জেরে এক দেশ আরেক দেশ থেকে রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করে নেয়।
কাবুল, কান্দাহার ও জালালাবাদে পাকিস্তানি কনস্যুলেটে হামলার মতো ঘটনাও ঘটে।

১৯৬১ সালে আফগান আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।
এরপর ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগান দখল করার পর কয়েক বছরের মধ্যে ২৫ লাখের বেশি আফগান শরণার্থী পাকিস্তানে প্রবেশ করে...!

২০০১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত মেরিকান বাহিনী আফগানিস্তানে থাকাকালীন সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় বহুবার সংঘাতে জড়ায়, এই সময়ের মধ্যেও একাধিকবার বোমা ও বিমান হামলা চালায়, অথচ জাশি বট ও বঙ্গু সুশীলরা শুধুমাত্র তালেবানের দোষ দেখে..!

২০২১ সালের পর থেকে আফগান তালেবান প্রশাসনের অধীনে দুই দেশের সীমান্তজুড়ে সশস্ত্র সংঘাত অব্যাহত থাকে..!
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর আবারও পাকিস্তান আফগান রাজধানী কাবুল ও সীমান্তের ভেতরে হামলা চালায়, যার জবাবে আফগান বাহিনীর চালানো হামলায় পাকিস্তানের অন্তত ৩৮ জন সেনা নিহত হয়!

এবারও পাকিস্তান আগে আফগানে হামলা চালায়, যে হামলায় প্রায় ১৫০ আফগান বেসামরিক নারী-পুরুষ মারা যান।
প্রতিশোধ নিতে আফগান বাহিনী গতকাল পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক হামলা চালায়।
এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে!

পয়েন্ট টু বি নোটেড: আফগান পাকিস্তানি বেসামরিক মুসলিমদের উপর কোন সামরিক হামলা এখন পর্যন্ত পরিচালনা করেনি, বরং পাকি নাপাক বাহিনী আফগানে বেসামরিক মুসলিম শিশু ও নারীর উপর বোমা হামলা চালিয়ে প্রায় ১৫০+ পৃথিবী থেকে বিদায় করেছে...!
© Aḥmad Rakib

Post Image Feb 27, 2026, 2:41 pm · 80 Views · Public
Like (0) - Comment - Share - More

Leave a Comment

Login to leave a comment.

Comments

Total Comments: 0

No comments yet.