চলমান যুদ্ধে তেল নিয়ে তেলেসমাতি!
হরমুজ প্রণালী অবরোধের ২৬তম দিনে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অবরোধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজার থেকে হারিয়ে গেছে।
বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি নিয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে তা হলো:
🇱🇰 শ্রীলঙ্কা: জ্বালানি রেশনিং চালু হয়েছে। চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা হয়েছে এবং স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।
🇵🇰 পাকিস্তান: তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়েছে, পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা হয়েছে।
🇮🇳 ভারত: মাত্র ৯ দিনের তেল মজুদ অবশিষ্ট আছে বলে দাবি করা হচ্ছে। জরুরি সরবরাহের জন্য নতুন উৎস খোঁজা হচ্ছে।
🇰🇷 দক্ষিণ কোরিয়া: প্রায় ৫০ দিনের তেল মজুদ রয়েছে।
🇯🇵 জাপান: সরকার ২৫৪ দিনের মজুদের কথা বললেও বাস্তবে ব্যবহারযোগ্য মজুদ প্রায় ৯৫ দিন বলে দাবি করা হচ্ছে।
🇬🇧 যুক্তরাজ্য: শেল কোম্পানির প্রধান সতর্ক করেছেন, এপ্রিল থেকে জ্বালানি ঘাটতি শুরু হতে পারে।
🇩🇪 জার্মানি: গ্যাসের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন জরুরি পরিকল্পনা চালু করেছে।
🇫🇷 ফ্রান্স: আট সপ্তাহ আগের তুলনায় পাম্পে জ্বালানির দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
🇿🇦 দক্ষিণ আফ্রিকা: সরকার পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল বললেও নাগরিকরা খালি পাম্পের ছবি প্রকাশ করছে।
🇹🇷 তুরস্ক: জ্বালানি মজুদ কমে গেছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
🇧🇷 ব্রাজিল: দেশটি নিজস্ব তেল উৎপাদন করলেও সরবরাহ চেইনের সমস্যার কারণে পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে।
🇦🇺 অস্ট্রেলিয়া: তেলবাহী জাহাজ দেরিতে পৌঁছাচ্ছে। আমদানিনির্ভর হওয়ায় দেশটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করছে।
🇺🇸 যুক্তরাষ্ট্র: কিছু অঙ্গরাজ্যে গ্যাস ট্যাক্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কৌশলগত তেল মজুদ থেকে তেল ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা নীরবে শিথিল করা হয়েছে।
🇨🇳 চীন: প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ করেছে। তেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে, তবে এখনও ইরান থেকে তেল নিচ্ছে।
এদিকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট OPEC উৎপাদন মাত্র ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা হারিয়ে যাওয়া সরবরাহের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ।
©Sorwar Alam
Mar 28, 2026, 11:48 pm · 68 Views · Public
Leave a Comment
Login to leave a comment.